জাতীয় ডেস্ক | রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬ | প্রিন্ট | 5 বার পঠিত

দেশে কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে সকলের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার দুপুরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অনুষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান। বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলামে দক্ষতাভিত্তিক ও কর্মমুখী শিক্ষা অন্তর্ভুক্তিকরণ বিষয়ক শিক্ষক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এই বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে সম্মাননা স্মারক ও গাছের চারা উপহার দেওয়া হয়।
তিনি জানান, জাতীয় উন্নয়ন কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাজ নয়, বরং এটি একটি সম্মিলিত যাত্রা। এই যাত্রায় সরকার বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, নাগরিক সমাজ এবং শিল্পখাতসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সহযোগিতা প্রত্যাশা করে। ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে উন্নয়ন অগ্রযাত্রা কেউ বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও জানান, কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা শুধু সনদ প্রদান করবে না, বরং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করবে, জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তর করবে এবং নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করবে। এটি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি সামাজিক পরিবর্তনেও ভূমিকা রাখবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সরকার একটি জ্ঞান ও মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে বলে তিনি জানান। শিক্ষা, গবেষণা, মেধা ও সৃজনশীলতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার পরিবেশ তৈরির ওপর তিনি জোর দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের তরুণদের প্রযুক্তি ও জ্ঞানভিত্তিক দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করা গেলে বাংলাদেশ বিশ্বে একটি মডেল রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারে। তরুণদের নিজেকে দক্ষ করে গড়ে তোলার পাশাপাশি নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। ভাষা শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি জানান, মাতৃভাষা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় ভাষা শেখা ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াবে। তিনি বলেন, দেশ গণতান্ত্রিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর সময় এসেছে এবং উন্নয়ন সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রসঙ্গে তিনি জানান, এই প্রতিষ্ঠান সারাদেশে উচ্চশিক্ষার বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এখানে প্রায় ৪০ লাখ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে এবং ইতোমধ্যে এক কোটির বেশি শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেছে। তিনি আরও জানান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় উচ্চশিক্ষা প্রসারে সুযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রসঙ্গ তুলে তিনি জানান, প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে কর্মসংস্থানে পরিবর্তন এসেছে এবং নতুন দক্ষতার প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়েছে। এজন্য সার্টিফিকেট নির্ভর শিক্ষা নয়, বরং দক্ষতাভিত্তিক ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে বলে তিনি জানান। তিনি জানান, সরকার শিক্ষা কারিকুলামকে আধুনিক ও কর্মমুখী করার কাজ শুরু করেছে এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের মধ্যে সংযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইন্টার্নশিপ ও বাস্তব প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, একজন মানবিক মানুষ গড়ে তুলতে নৈতিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, উচ্চশিক্ষিত অনেক শিক্ষার্থী বেকার থাকছেন মূলত ব্যবহারিক ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার অভাবে। এ সমস্যা সমাধানে সরকার ইন্টার্নশিপ, অ্যাপ্রেন্টিসশিপ এবং শিল্প-একাডেমিয়া সহযোগিতা বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে ইনোভেশন গ্র্যান্ট এবং সিড ফান্ডিং প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।
অনুষ্ঠানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম আমানুল্লাহ সভাপতিত্ব করেন। উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রী আনম এহছানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহাদী আমিন, শিক্ষা সচিব আবদুল খালেক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান।
Posted ৮:৪৪ পিএম | রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬
ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল | Mr. Reporter
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের আরও খবর
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।